বিশ্বমানের ল্যাবরেটরিতে যেকোন টেস্ট করতে চলে আসুন ইমপালস হাসপাতালে

Let's be Together



Extra info thumb
করোনা পরিস্থিতিতে কিছু কথা

করোনা পরিস্থিতিতে কিছু কথা

বাংলাদেশের এখনকার করোনা পরিস্থিতিতে আপনাদের জন্য কিছু কথা বলতে চাই।  এখন দেশে  করোনার একটি Epidemic  (মহামারি) অবস্থা বিরাজ করছে।    

১. এখন যে সমস্ত রোগীর জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা, শ্বাস কষ্ট আছে তাদের সবাইকে ধরে নিতে হবে যে, তারা করোনা পজেটিভ তথা তারা করোনা রোগে আক্রান্ত । এবং সে মতেই তাদের চিকিৎসা করতে হবে।
২. PCR টেষ্টে সর্বোচ্চ ৭০% এর ক্ষেত্রে পজেটিভ হয়। বাংলাদেশে এর হার ৬৫% এর বেশি হবে না। কোন কোন ক্ষেত্রে এটা ৫০ ভাগ অথবা তার চেয়েও কম ক্ষেত্রে পজেটিভ হয়।
৩. তা হলে কি আমরা ধরে নিবো যাদের টেষ্ট পজেটিভ আসলো না তারা কি সবাই নেগেটিভ, অথবা করোনা আক্রান্ত নন? এই বাকি ১০০-৭০= ৩০% রোগীর টেষ্ট নেগেটিভ আসবেই ।
৪. তা হলে আমরা বুঝতে পারছি এবং স্টাডি টালি বলছে যে, রোগীর যদি লক্ষণ থাকে অথবা রোগীর যদি Chest x-ray (বুকের এক্স-রে) বা CT scan (সিটি স্ক্যান) পজেটিভ থাকে তা হলে রোগীকে করোনা রোগী হিসাবে চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে। টেষ্ট রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না।
৫. করোনা ইনফেকশনে দুটি ফেইজ আছে। প্রাথমিক পর্যায়কে বলা হয় ইনফেকটিভ ফেইজ। দ্বিতীয় পর্যায় কে বলা হয় ইনফ্লামেটরি ফেইজ। এই ইনফ্লামেটরি ফেইজ সাধারণত ৬/৭ দিনের মাথায় শুরু হয়। এই ফেইজ যদি একবার শরীরে ঘাটি গেড়ে বসে তা হলে আমরা যে কোন চিকিৎসা দেই না কেন এখান থেকে ভালোভাবে ফেরত আসার মতো কোন গ্যারান্টি কেউই দিতে পারবে না। কাজেই এই Cytokines Storm (সাইটোকাইন স্ট্রম)  এটাকে ঠেকাতে গেলে এর প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা শুরু করতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে।
৬. আপনি যদি অল্প বয়স্ক হন এবং আপনার যদি অন্য কোন অসুখ-বিসুখ না থাকে, তা হলে আপনার রিস্ক নিতে কোন আপত্তি নাই। আপনার শরীরের ভিতরের শক্তিই তথা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনাকে অসুখ থেকে বিশেষ করে ঈুঃড়শরহবং ঝঃড়ৎস  (সাইটোকাইন স্ট্রম) থেকে আপনাকে রক্ষা করবে বলে আশা করা যায়।
৭. কিন্তু আপনার বয়স যদি বেশি হয়। অথবা আপনার যদি Comorbidity (ডায়াবেটিক, ব্ল্যাড প্রেসার, হার্ট, কিডনী সমস্যা) থাকে তা হলে আপনি কোন ভাবেই এব্যাপারে কোন রিস্ক নিতে পারবেন না।
৮. আপনার যদি করোনার লক্ষণ দেখা দেয় তা হলে ৬/৭ দিনের মাথায় আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে যথাযথ উপদেশ নিতে হবে। এব্যাপারে কোন অবহেলা করলে আপনার জীবনের উপর মারাত্মক একটি হুমকি চলে আসবে।
৯. আপনার বয়স বেশি হবে এবং omorbidity (ডায়াবেটিক, ব্লাড প্রেসার, হার্ট, কিডনী সমস্যা) থাকবে ততোই আপনার আক্রান্ত হবার হার বেশি থাকবে।
১০. আমরা গত একমাস ধরে প্রায় ২৫০ জন রোগী যারা প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন এবং তার মধ্যে প্রায় ৩৬ জন রোগী আইসিইউ/এইচডিইউর রোগী যাদেরকে আমরা পর্যবেক্ষন করেছি প্রতি মূহুর্তে।  
১১. আমাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা বলছে, যারা বয়স্ক এবং যাদের Comorbidity (ডায়াবেটিক, ব্লাড প্রেসার, হার্ট, কিডনী সমস্যা) আছে তাদের অবস্থা খারাপ হবার জন্য অন্যতম কারন হলো দেরি করে হাসপাতালে আসা।
১২. এখানে আরেকটি কথা বলতে চাই, করোনা একটি ভাইরাস এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ শক্তি হচ্ছে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তথা (Immunity)।
১৩. কাজেই আপনি যে বয়সেরই হোন না কেন আপনার যে অসুখই থাকুন না কেন আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়ান।
১৪. প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন। পরিমান মতো ঘুমান। সুষম খাবার খান। আপনার যদি ডায়াবেটিক, ব্লাড পেসার, হার্টের বা কিডনীর সমস্যা বা অন্য কোন অসুখ-বিসুখ থাকে তা হলে ডাক্তারের পরামর্শ সহ আপনার সমস্যা গুলোকে সর্বোচ্চ ভাবে নিয়ন্ত্রে রাখুন।
১৫. আপনার যদি আপাত দৃষ্টিতে কোন অসুখ নাও থাকে তা হলে আপনি আপনার রক্তের সুগার পরিক্ষা করুন। এবং আপনার ব্লাড প্রেসার মাপুন।
১৬. ৩০ বছরের উর্ধে আমাদের দেশে অনেক রোগী আছে যাদের ডায়াবেটিক প্রাথমিক পর্যায়ে আছে অথবা তাদের ব্লাড প্রেসার আছে। যা এখনও ধরা পড়ে নাই।
১৭. আপনার যদি নাকে সমস্যা থাকে, এ্যাজমা থাকে, সাইনোসাইটিস থাকে তা হলে আপনি এটাকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রনের মধ্যে নিয়ে আসেন।
১৮. অহেতুক কোন দুশ্চিন্তা করবেন না। কারণ অবসাদ এবং দুশ্চিন্তা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কে কমিয়ে দেয়।
১৯. জনসমাগম এলাকাতে মাক্স এবং চোখের চশমা  ছাড়া আপনি কোন সময়ই চলাফেরা করবেন না।
২০. বদ্ধ জায়গায়,  যেমন : জিমনেশিয়াম/বাজার, দোকান ইত্যাদি,  যেখানে আপনি যাওয়ার ৩/৪ ঘন্টা পূর্বে কোন লোক ঢুকে ছিলো অথবা আপনি যাওয়ার ৩/৪ ঘন্টা পরেও লোক ঢুকতে পারে, যে সমস্ত জায়গায় অবশ্য অবশ্যই আপনার কথা বলার সময় আপনাকে মাক্স মুখে পড়ে থাকতে হবে।
২১. কারন তা না হলে আপনি কথা বললে যে ভাইরাজটি (ড্রপলেট) বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তা আপনি চলে যাওয়ার ৩/৪ ঘন্টা পর্যন্ত অন্য লোক যারা ঐ জায়গায় ঢুকবে তাদেরকেও আক্রান্ত করে দিতে পারে। একই ভাবে আপনি ঘরে ঢোকার ৩/৪ ঘন্টা পূর্বে কেউ যদি   মাক্স ছাড়া কথা বলে এবং হাঁচি/কাশি দেয় তবে সেই ড্রপলেটের মাধ্যমে আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন।
২২. পরিশেষে দুইটি কথা বলতে চাই,

প্রথমত: আপনি ধরে নিবেন আপনার আশেপাশে যারা
 চলাফেরা করছেন তারা সবাই করোনা পজেটিভ। যদিও এদের অনেকের ক্ষেত্রেই কোন লক্ষণ  সেরকম প্রকাশ পায় নি।
দ্বিতীয়ত: আপনি যদি সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে বসে থাকেন তা হলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। কাজেই খোলা যায়গায় আপনাকে অবশ্যই দিনের কিছু অংশ ব্যায় করতে হবে। শর্ত হলো যে, জায়গাটি খোলা থাকতে হবে। এবং আপনার ৬ ফুটের মধ্যে কেউই যেন না থাকে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার মাক্সটি খুলেও রাখতে পারবেন।




প্রফেসর (ডাঃ) জাহীর আল-আমীন
এমবিবিএস, ডিএলও (লন্ডন), 
এফআরসিএস (আয়ারল্যান্ড), 
এফআরসিএস (এডিন)
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ইমপাল্স হেলথ সার্ভিসেস এন্ড রিচার্স সেন্টার লিঃ

দ্বিতীয়ত: আপনি যদি সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে বসে থাকেন তা হলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। কাজেই খোলা যায়গায় আপনাকে অবশ্যই দিনের কিছু অংশ ব্যায় করতে হবে। শর্ত হলো যে, জায়গাটি খোলা থাকতে হবে। এবং আপনার ৬ ফুটের মধ্যে কেউই যেন না থাকে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার মাক্সটি খুলেও রাখতে পারবেন।



প্রফেসর (ডাঃ) জাহীর আল-আমীন
এমবিবিএস, ডিএলও (লন্ডন), 
এফআরসিএস (আয়ারল্যান্ড), 
এফআরসিএস (এডিন)
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ইমপাল্স হেলথ সার্ভিসেস এন্ড রিচার্স সেন্টার লিঃ